Constitution

গঠনতন্ত্র

বিসমিল্লাহির রাহমানির রাহিম

ভূমিকা

স্বাধীনতোত্তর বাংলাদেশে চাঁদপুরের সাংবাদিকদের একটি কমন প্লাটফর্মে একীভূত করার মহৎ উদ্দেশ্যে বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি চাঁদপুর শাখার সদসবৃন্দ চাঁদপুর প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেন। সে মতে ১৯৭০ সালে প্রতিষ্ঠা লাভ করে চাঁদপুরের সাংবাদিকদের প্রিয় সংগঠন চাঁদপুর প্রেস ক্লাব। চাঁদপুর শহরের কবি নজরুল সড়ক (সাবেক স্ট্র্যান্ড রোড)-এ তৎকালীন মহকুমা প্রশাসক বর্তমান জেলা প্রশাসকের বাসভবনের দক্ষিণে ডাকাতিয়া নদীর উত্তর পাড়ে চাঁদপুর পৌরসভার তৎকালীন চেয়ারম্যান জনাব আঃ করিম পাটওয়ারীর আন্তরিক প্রচেষ্টায় পৌরসভার ভূমিদানে ১৯৭৬ সালের ডিসেম্বরে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের ভবন (টিনশেড) উদ্বোধন করা হয়। তখন এ প্রেস ক্লাব সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার নিমিত্তে একটি গঠনতন্ত্র প্রণয়নের অনিবার্যতা দেখা দেয়। সেমতে গঠনতন্ত্র প্রণয়ন করা হয়।

এই গঠনতন্ত্রে চাঁদপুর প্রেস ক্লাব পরিচালিত হয় প্রায় দু’যুগেরও বেশি সময় ধরে। তারপর সদস্য সংখ্যা বৃদ্ধিসহ নানা অনিবার্য কারণে এ পর্যন্ত গঠনতন্ত্রটি চার দফা সংশোধন করে সময়োপযোগী করা হয়। ৩য় দফা সংশোধনের পর এই গঠনতন্ত্রটি মুদ্রিত আকারে প্রকাশের সিদ্ধান্ত গৃহীত হলে সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয় ২০১৪ সালে। আর এটিই চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের পুস্তক আকারে প্রথম ছাপানো গঠনতন্ত্র। এরপর ২০২০ সালে চতুর্থ দফা সংশোধন করে সে বছরই গঠনতন্ত্রটি পুনঃমুদ্রণের উদ্যোগ নেয়া হয়। নির্ধারিত মূল্যে ক্লাবের প্রতিজন সদস্য গঠনতন্ত্রটি সংগ্রহ করে তা যথাযথ সংরক্ষণ করলে এবং গঠনতান্ত্রিক নিয়ম কানুন মেনে চললে ক্লাব পরিচালনায় সুষ্ঠুতা ও গতিশীলতা বৃদ্ধি পাবে। গঠনতন্ত্রের পর্যায়ক্রমিক সংশোধন প্রক্রিয়া তুলে ধরা হলো:-

গঠনতন্ত্র সংশোধন (১ম পর্যায়)

০১/০৮/২০০২ তারিখে অনুষ্ঠিত চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের বিশেষ সাধারণ সভায় গঠনতন্ত্র সংশোধনে একটি কমিটি গঠনের প্রয়োজনীয়তা সম্পর্কে গুরুত্বারোপ করা হয়।  সে মতে একটি কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির সদস্যরা হচ্ছেন:- ১। অ্যাডভোকেট ইকবাল বিন বাশার ২। জনাব ইকরাম চৌধুরী ৩। জনাব কাজী শাহাদাত ৪। অ্যাডভোকেট বিনয় ভূষণ মজুমদার  ৫। জনাব ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী। দেশের প্রচলিত নিয়ম-কানুন অনুযায়ী প্রণীত জাতীয় প্রেস ক্লাবের গঠনতন্ত্রসহ অন্যান্য সাংবাদিক সংগঠনের গঠনতন্ত্র পর্যালোচনা করে উপরোক্ত কমিটি চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের বিদ্যমান (তৎকালীন) গঠনতন্ত্রের বিভিন্ন অনুচ্ছেদ ও ধারার সংশোধনী খসড়া আকারে উপস্থাপন করলে বিগত ০২ সেপ্টেম্বর ২০০২ তারিখে অনুষ্ঠিত সাধারণ পরিষদের সভায় উপরোক্ত সদস্যদের লিখিত/ মৌখিক মতামত, প্রস্তাবনা, পরামর্শ পর্যালোচনা সাপেক্ষে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের মূল গঠনতন্ত্রের প্রথম দফা সংশোধন চূড়ান্ত অনুমোদন লাভ করে এবং ০১ জানুয়ারি ২০০৪ সাল থেকে এটি কার্যকর হয়।

গঠনতন্ত্র সংশোধন  (২য় পর্যায়)

২০০৮ ও ২০০৯ সালে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবে অনাহুতভাবে অচলাবস্থা বিরাজ করলে তা নিরসনে ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে ১৫ সদস্য বিশিষ্ট সমঝোতা কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটির সদস্যগণ হলেন সর্বজনাব ইকরাম চৌধুরী, কাজী শাহাদাত, অধ্যাপক আহছানুজ্জামান, বিএম হান্নান, গোলাম কিবরিয়া জীবন, অধ্যাপক জালাল চৌধুরী, ইকবাল হোসেন পাটওয়ারী, শাহ মোহাম্মদ মাকসুদুল আলম, অ্যাডভোকেট মোঃ শাহজাহান মিয়া, এস এম আনওয়ারুল করীম, শহীদ পাটোয়ারী, পার্থনাথ চক্রবর্তী, গিয়াসউদ্দিন মিলন, রহিম বাদশা ও সোহেল রুশদী। এ কমিটি  গত ২৩/১২/২০০৯ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রথম সভায় তাঁদের কার্যক্রম ও ক্ষমতার আওতায় সাত সদস্য বিশিষ্ট একটি আহ্বায়ক কমিটি গঠন করে, যার আহ্বায়ক মনোনীত হন প্রেস ক্লাবের সাবেক সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট বিনয় ভূষণ মজুমদার। এর অপরাপর ছয় সদস্য হচ্ছেন: সর্বজনাব ইকরাম চৌধুরী, কাজী শাহাদাত, অধ্যাপক আহছানুজ্জামান, বিএম হান্নান, পার্থনাথ চক্রবর্তী ও রহিম বাদশা।  এ কমিটিকে এক মাসের মধ্যে (২২/০১/২০১০) গঠনতন্ত্র সংশোধন সাপেক্ষে সমঝোতার ভিত্তিতে এক বছর মেয়াদী ৩১ সদস্য বিশিষ্ট কার্যকরী পরিষদ গঠনের দায়িত্ব দেয়া হয়। সে মতে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের গঠনতন্ত্র দ্বিতীয় দফা সংশোধন করে গত ১৬/০১/২০১০ তারিখে আহুত সাধারণ সভায় সংশোধিত গঠনতন্ত্র অনুমোদন করা হয় এবং ওইদিন থেকেই কার্যকর হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়।

গঠনতন্ত্র সংশোধন (৩য় পর্যায়)

২০১২ সালে সভাপতি জনাব কাজী শাহাদাত ও সাধারণ সম্পাদক জনাব ইকবাল হোসেন পাটওয়ারীর নেতৃত্বে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের কার্যকরী পরিষদ দায়িত্ব গ্রহণ করার পর প্রথম কার্যকরী পরিষদ সভায় গঠনতন্ত্র ৩য় দফা সংশাধনের জোর দাবি উত্থাপিত হয়। সেমতে দ্বিতীয় কার্যকরী পরিষদ সভায় গঠনতন্ত্র সংশোধনে একটি উপ-কমিটি গঠিত হয়। এ কমিটির সদস্যগণ হচ্ছেন : জনাব কাজী শাহাদাত (আহ্বায়ক), সদস্য-সর্বজনাব ইকরাম চৌধুরী, অধ্যাপক জালাল চৌধুরী, গোলাম কিবরিয়া জীবন, বিএম হান্নান ও রহিম বাদশা। এ কমিটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে ও একবার মৌখিক বিজ্ঞপ্তিতে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আহরণ করে এবং সেমতে পুরো গঠনতন্ত্র পুনঃ লিখন, ব্যাপক সংশোধন ও পরিমার্জনের উদ্যোগ নেয়। এ সংশোধিত গঠনতন্ত্রটি ২৫ ডিসেম্বর ২০১৩ খ্রিঃ তারিখে অনুষ্ঠিত চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় অনুমোদন করা হয়। পরবর্তীতে ২০১৪ সালে প্রেস ক্লাবের তৎকালীন সভাপতি জনাব গোলাম কিবরিয়া জীবন এবং সাধারণ সম্পাদক জনাব গিয়াসউদ্দিন মিলনের সময় গঠনতন্ত্র পুস্তক আকারে প্রথম প্রকাশ করা হয়।

গঠনতন্ত্র সংশোধন (৪র্থ পর্যায়) :

২০১৯ সালে তৎকালীন সমঝোতা কমিটির মেয়াদকাল উত্তীর্ণ হয়ে গেলে বাস্তবতার নিরিখে সমঝোতা কমিটি পুনঃগঠনসহ এর মেয়াদকাল বৃদ্ধি এবং গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ-২২ এর ধারার কিছু পরিবর্তন-পরিবর্ধনসহ গুরুত্বপূর্ণ বেশ কয়েকটি অনুচ্ছেদে সংশোধনী আনার প্রয়োজনীয়তা দেখা দেয়। সে আলোকে ২৪ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে প্রেস ক্লাবের ২০১৯ সালের ৬ষ্ঠ কার্যকরী পরিষদের সভায় গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ-২২ পরিবর্তনসহ অতি প্রয়োজনীয় কিছু ধারার সংশোধনের বিষয়ে যৌক্তিকতা তুলে ধরেন চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও গঠনতন্ত্র সংশোধনী উপ-কমিটির সাবেক আহ্বায়ক জনাব কাজী শাহাদাত। তৎপ্রেক্ষিতে সিদ্ধান্ত নেয়া হয়, প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি কাজী শাহাদাতকে আহ্বায়ক করে পূর্বে যারা গঠনতন্ত্র সংশোধনী উপ-কমিটিতে ছিলেন তাদেরকে প্রাধান্য দিয়ে আরো ২/৩ জন সদস্য নিয়ে গঠনতন্ত্র সংশোধনী উপ-কমিটি গঠন করার। এ বিষয়ে উপস্থিত সকলে সম্মতি জ্ঞাপন করেন এবং ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে প্রেস ক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় পূর্ণাঙ্গ উপ-কমিটি গঠন পূর্বক অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে মর্মে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। সে আলোকে ২৭ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে অনুষ্ঠিত প্রেসক্লাবের বার্ষিক সাধারণ সভায় গঠনতন্ত্র সংশোধনের জন্যে পূর্বতন সংশোধনী উপ-কমিটির  সদস্যদের প্রাধান্য দিয়ে নতুনভাবে আরো ২/৩ জন সদস্য নিয়ে ৮ সদস্য বিশিষ্ট গঠনতন্ত্র সংশোধনী উপ-কমিটি গঠন করা হয়। এ কমিটির সদস্যগণ হচ্ছেন : জনাব কাজী শাহাদাত, আহ্বায়ক, সদস্য সর্বজনাব অধ্যক্ষ জালাল চৌধুরী, গোলাম কিবরিয়া জীবন, বি এম হান্নান, গিয়াসউদ্দিন মিলন, রহিম বাদশা, শাহাদাত হোসেন শান্ত ও রিয়াদ ফেরদৌস। এ কমিটিতে পদাধিকার বলে প্রেস ক্লাবের ২০২০ সালের কার্যকরী পরিষদের সভাপতি জনাব ইকরাম চৌধুরী ও সাধারণ সম্পাদক জনাব এএইচএম আহসান উল্লাহ সদস্য থাকবেন। সভায় সর্বসম্মতভাবে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় এবং এ উপ-কমিটি অনুমোদন লাভ করে।

গঠনতন্ত্র সংশোধনী এ উপ-কমিটি পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি দিয়ে এবং মৌখিকভাবে সদস্যদের থেকে প্রয়োজনীয় সংশোধনী আহ্বান করে। সে আলোকে লিখিত আকারে প্রাপ্ত সংশোধনী/ প্রস্তাবনা পাওয়া যায়। এসব সংশোধনী/ প্রস্তাবনা একাধিকবার পর্যালোচনা করে গঠনতন্ত্র পুনঃলিখন, ব্যাপক সংশোধন ও সংযোজনের উদ্যোগ নেয়া হয়। এরই ভিত্তিতে উক্ত উপ-কমিটি একাধিক বৈঠক করে চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের গঠনতন্ত্র চতুর্থ পর্যায়ে সংশোধন করে ৩০ ডিসেম্বর ২০২০ তারিখে অনুষ্ঠিত বার্ষিক সাধারণ সভায় উত্থাপনের মধ্য দিয়ে অনুমোদন করানো হয়। একই সাথে ওইদিন থেকেই এটি কার্যকর হবে বলে সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। উল্লেখ্য, উক্ত কমিটির প্রথম সভা ৩ আগস্ট ২০২০ তারিখে আহ্বায়ক জনাব কাজী শাহাদাতের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত হলেও পরবর্তী সভাগুলোতে অনিবার্য কারণে তিনি অনুপস্থিত থাকায় ক্লাবের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জনাব গিয়াসউদ্দিন মিলন ওই সভায় সভাপতিত্ব করেন।

 

গঠনতন্ত্র সংশোধন (৫ম পর্যায়) : যুক্ত হবে।

 

 

গঠনতন্ত্র

অনুচ্ছেদ -০১

ক) সংগঠনের নাম : চাঁদপুর প্রেস ক্লাব

খ) কার্যালয় : চাঁদপুর প্রেস ক্লাব ভবন, কবি নজরুল সড়ক (সাবেক স্ট্র্যান্ড রাড), চাঁদপুর।

গ) উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য :

১. বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশন ও সাংবাদিকতার মানোন্নয়নে কাজ করা;

২. সাংবাদিকদের সামগ্রিক কল্যাণে কাজ করা;

৩. সংবাদপত্রের স্বাধীনতা ও সাংবাদিকতার নীতিমালা অক্ষুণœ রাখার জন্যে কাজ করা;

৪. সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় কল্যাণমূলক কাজে সহায়তা করা;

৫. শিল্প-সাহিত্য-সংস্কৃতির বিকাশ এবং সুস্থ বিনোদনে উৎসাহ প্রদান করা;

৬. স্মরণিকা ও সাময়িকী প্রকাশ করা।

ঘ) পতাকা : আয়তাকার স্ট্যান্ডার্ড সাইজের কাপড়ে অথবা অন্য মাধ্যমে সাদা জমিনে মাঝ বরাবর চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাদা-কালো অথবা বহু বর্ণের লোগো মুদ্রণ/ স্থাপন সাপেক্ষে পতাকা তৈরি করা যাবে।

অনুচ্ছেদ- ০২

সদস্যের প্রকারভেদ :

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সদস্যপদ হবে চার প্রকার। এগুলো হচ্ছে- ১) প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ২) সাধারণ সদস্য ৩) সম্মানিত সদস্য ৪) আজীবন সদস্য ৫) সম্মানিত আজীবন সদস্য।

 

অনুচ্ছেদ -০৩

প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য যাঁরা : এ ধরনের সদস্য বলতে তাঁদেরকেই বোঝাবে যাঁরা চাঁদপুর প্রেস ক্লাব প্রতিষ্ঠায় মুখ্য ভূমিকা পালন করেছেন। তৎকালীন সময়ে ‘বাংলাদেশ সাংবাদিক সমিতি’ নামে সাংবাদিকদের একটি সংগঠনের চাঁদপুর শাখা গঠন করা হয়। এর সদস্যরা হলেন  সর্বজনাব আবদুল খালেক চৌধুরী, হাসান ইমাম, আলহাজ্ব কামরুজ্জামান চৌধুরী, শঙ্কর চন্দ্র দে, এস এম ওবায়েদুল্লাহ, মুনসুর আহমেদ খান, তাজুল ইসলাম চৌধুরী, অধ্যাপক জালাল উদ্দিন আহমেদ, মোহাম্মদ হোসেন খান, আহছানুজ্জামান মন্টু, মোস্তফা কামাল খান, মুসা কাজেম নূরী। যেহেতু এঁরাই পরবর্তীতে (১৯৭০ খ্রি.)  চাঁদপুর প্রেসক্লাব প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রেখেছেন, সেহেতু তাঁরা চাঁদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে বিবেচিত।

 

অনুচ্ছেদ-০৪

সাধারণ সদস্য :

এ ধরনের সদস্য বলতে তাঁদেরকেই বোঝাবে যাঁরা চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সর্বোচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন ‘সাধারণ পরিষদে’ অন্তর্ভুক্ত থাকবেন।

যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যক্তি নির্দিষ্ট ফরমে প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ আবেদন করলে গঠনতন্ত্রে উল্লেখিত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে সাধারণ সদস্য পদ প্রদান করা যাবে।

 

(ক) সাধারণ যোগ্যতা :

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্য পদ গ্রহণে আগ্রহী ব্যক্তিকে অবশ্যই কিছু সাধারণ যোগ্যতার অধিকারী হতে হবে। যেমন : চাঁদপুর জেলার স্থায়ী বাসিন্দা হতে হবে এবং চাঁদপুর শহর বা সদর উপজেলার কোনো স্থানে কমপক্ষ্যে ০৫ (পাঁচ) বছর স্থায়ীভাবে বসবাসকারী হতে হবে; তিনি বাংলাদেশের কোনো আদালত কর্তৃক দ-প্রাপ্ত (এক বছরের অধিক সশ্রম কারাদ-) হতে পারবেন না; কোনো রাজনৈতিক দলের পদ-পদবীধারী হতে পারবেন না; কমপক্ষে এইচএসসি বা সমমানের পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে হবে; বয়স ২৩ থেকে ৫৫ বছরের মধ্যে হতে হবে। এ সকল অত্যাবশ্যকীয় সাধারণ যোগ্যতা সত্ত্বেও তাকে হতে হবে (নিচের যে কোনো একটি):-

 

১) রাজধানী (ঢাকা) থেকে প্রকাশিত বহুল প্রচারিত দৈনিক পত্রিকা (চাঁদপুর জেলায় যার সন্তোষজনক প্রচার সংখ্যা আছে বলে প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদ মনে করে)-এর অন্ততঃ দুই বছর পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি/ চাঁদপুরস্থ বিশেষ প্রতিনিধি/ চাঁদপুরস্থ স্টাফ রিপোর্টার;

 

২) বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা (বাসস), সরকার অনুমোদিত টিভি চ্যানেল-এর অন্ততঃ দুই বছর পূর্বে নিয়োগপ্রাপ্ত চাঁদপুর জেলা প্রতিনিধি;

৩) চাঁদপুর জেলা সদর থেকে দুই বছর যাবৎ নিয়মিতভাবে প্রকাশিত এবং জেলা সদরসহ জেলায় যার সন্তোষজনক প্রচার (সার্কুলেশন) রয়েছে বলে প্রেসক্লাব কার্যকরী পরিষদ মনে করে এমন সাপ্তাহিক পত্রিকার শুধুমাত্র সম্পাদক/ প্রকাশক আবেদন করতে পারবেন।

 

৪) চাঁদপুর জেলা সদর থেকে অন্ততঃ এক বছর যাবৎ নিয়মিতভাবে প্রকাশিত দৈনিক পত্রিকার সম্পাদক/ প্রকাশক (পেশাদার) এবং এ  পত্রিকার আরো ০৩ জন সিনিয়র পেশাদার সাংবাদিক। (প্রকাশকের পেশাদারিত্বের বিষয়টি কার্যকরী পরিষদ সভায় গৃহীত সিদ্ধান্তক্রমে শিথিলযোগ্য হবে। এটি না হলে প্রকাশক সম্মানিত সদস্য হবেন, যার কোনো ভোটাধিকার থাকবে না। কোনো কারণে সম্পাদক/ প্রকাশক সদস্য হতে না চাইলে বা না পারলে তাঁর মনোনীত তাঁর পত্রিকার মোট ০৪ জন পেশাদার সাংবাদিককে সদস্যপদ পদ প্রদান করা যাবে)। অনিয়মিত স্থানীয় দৈনিকের ক্ষেত্রে এ সংখ্যা দু’য়ের অধিক হওয়া বাঞ্ছনীয় নয়। (দৈনিকের ক্ষেত্রে সপ্তাহে কমপক্ষে ০৫ দিন পত্রিকা প্রকাশ না হলে এবং সাপ্তাহিকের ক্ষেত্রে পর পর দুই সংখ্যা প্রকাশিত না হলে অনিয়মিত বলে গণ্য হবে)।

 

৫) জাতীয় পর্যায়ে সুপরিচিত, সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত শীর্ষস্থানীয় অনলাইন নিউজ পোর্টাল বা গণমাধ্যম অনুমোদন প্রাপ্তির সময়সীমা তিন বছর অতিক্রম করলে এবং এটির জেলা প্রতিনিধি নিয়োগ প্রাপ্তির দু’বছর শেষে সাধারণ সদস্য পদ গ্রহণের জন্যে আবেদন করতে পারবেন। জেলা পর্যায়ে সরকারি অনুমোদনপ্রাপ্ত, অবিতর্কিত ও পাঠক সমাদৃত অনলাইন নিউজ পোর্টালের বৈধ বয়সসীমা তিন বছর অতিক্রম করলে এর সম্পাদক এমন সদস্য পদ চাইতে পারবেন।

 

(খ) সাধারণ সদস্যদের আবেদনপত্রের সাথে যা যা থাকতে হবে বা জমা দিতে হবে :

১) সংশ্লিষ্ট মিডিয়া (অনুমোদিত পত্রিকা/ বেতার/ টিভি চ্যানেল/ অনলাইন নিউজ পোর্টাল)-এর সম্পাদক/ যথাযথ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্র/ প্রত্যয়নপত্র সত্যায়িত ফটোকপি ও পরিচয়পত্রের ফটোকপি; ০২ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি, শিক্ষাগত যোগ্যতার সত্যায়িত সনদ, নাগরিকত্বের সনদ, জাতীয় পরিচয়পত্রের ফটোকপি।

 

২) চাঁদপুর প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদের দুইজন সদস্যের (সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং যাচাই-বাছাই উপ-কমিটির সদস্য ব্যতীত) সুপারিশ।

 

(গ) সাধারণ সদস্য পদে আবেদনের অযোগ্যতা :

১) সাংবাদিকতা করেন কিন্তু কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে বা সরকারি এমপিওভুক্ত কোনো পদে কর্মরত কিংবা কোনো রাজনৈতিক দলের পদ-পদবীতে অধিষ্ঠিত অথবা সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত;

 

২) উপজেলা পর্যায়ের কোনো প্রেসক্লাবের কার্যকরী/ সাধারণ পরিষদে অন্তর্ভুক্ত এবং উপজেলা পর্যায়ে কর্মরত কোনো সম্পাদক/ সাংবাদিক/ সংবাদকর্মীগণ।

৩) জেলা সদর ব্যতীত অন্য স্থান কিংবা কোনো উপজেলা সদর থেকে সম্পাদিত ও প্রকাশিত পত্রিকার সাথে সংশ্লিষ্ট সম্পাদক বা তাঁর মনোনীত সাংবাদিক/ সংবাদকর্মী।

 

৪। জেলা সদর থেকে প্রকাশিত কিন্তু বাস্তবিকভাবে কোনো নির্দিষ্ট উপজেলায় যার প্রচার সংখ্যা সীমিত এমন পত্রিকার সম্পাদক বা তাঁর মনোনীত সাংবাদিক/ সংবাদকর্মী।

 

(ঘ) সাধারণ সদস্য পদে আবেদনের প্রক্রিয়া :

নগদ ১০০০ (এক হাজার) টাকা (অফেরতযোগ্য) দিয়ে চাঁদপুর প্রেসক্লাব কার্যালয় থেকে আবেদন ফরম সংগ্রহ করে তা পূরণ পূর্বক প্রয়োজনীয় কাগজপত্র (সুপারিশসহ) জমা দিতে হবে।

 

(ঙ) সাধারণ সদস্য পদ প্রদানের প্রক্রিয়া :

আবেদনকারী প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও সুপারিশ সম্বলিত আবেদনপত্রটি চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদকের নিকট জমা দিয়ে তার প্রাপ্তি স্বীকারের নমুনা বা প্রমাণ সংগ্রহ করে তা সংরক্ষণ করবেন। গৃহীত আবেদনপত্র সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক সর্বোচ্চ ০৩ (তিন) মাস সময়ের মধ্যে সদস্য যাচাই-বাছাই উপ-কমিটিতে প্রেরণ করবেন। এই উপ-কমিটি সর্বোচ্চ ০৩ (তিন) মাসের মধ্যে সভা করে আবেদনকারীর আবেদন যাচাই-বাছাই করে মতামত/ সুপারিশসহ লিখে প্রেস ক্লাবের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক বরাবরে প্রেরণ করবেন। এর ব্যত্যয় ঘটলে কার্যকরী পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন।

 

পরবর্তী কার্যকরী পরিষদ সভায় উপস্থিত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্য যদি আবেদনকারীর অনুকূলে প্রদত্ত যাচাই-বাছাই উপ-কমিটির ‘গ্রহণযোগ্য’মতামতকে কণ্ঠভোটে/ গোপন ভোটে (প্রয়োজন হলে) অনুমোদন করেন তাহলে তিনি প্রাথমিকভাবে সাধারণ সদস্য পদ লাভের যোগ্যতা অর্জন করবেন। এ কথা আবেদনকারীকে লিখিত/ মৌখিকভাবে জানালে তিনি নগদ ৩,০০০/- (তিন হাজার) টাকা ভর্তি ফি, ছয় মাসের নির্ধারিত চাঁদা ও কল্যাণ তহবিলের অনুদান অফেরৎযোগ্য ১,৫০০/-(এক হাজার পাঁচশত) টাকা পরিশোধ সাপেক্ষে ছয় মাসের জন্যে অস্থায়ীভাবে সাধারণ সদস্যপদ লাভ করবেন।

 

ছয় মাস পর তার নৈতিক আচরণ, পেশাগত দক্ষতা ও সততা যথাযথ বলে বিবেচিত হলে ক্লাবের কার্যকরী পরিষদ সভায় এজেন্ডা এনে উপস্থিত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতির ভিত্তিতে তার সাধারণ সদস্যপদ অস্থায়ী থেকে স্থায়ী করবে। এর ব্যত্যয় হলে প্রাথমিকভাবে প্রদত্ত তার অস্থায়ী সাধারণ সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে। এ বিষয়টি তাঁকে পত্রের মাধ্যমে জানিয়ে দিতে হবে।

 

স্থায়ীভাবে সাধারণ সদস্যপদ পেলে যে কোনো ব্যক্তি ভোটাধিকার ভোগ করবেন। তবে তিন বছর পর প্রেসক্লাবের কার্যকরী পরিষদের নির্বাচনে প্রার্থী হিসেবে অংশগ্রহণ করতে পারবেন। সাধারণ সদস্যপদ লাভের পর অথবা পূর্ব থেকে যারা রাজনৈতিক দলের পদ-পদবীতে অধিষ্ঠিত, তাদের ভোটাধিকার অক্ষুণœ থাকবে। তবে রাজনৈতিক পদ-পদবীধারী ও সক্রিয় রাজনীতিতে যুক্ত ব্যক্তি সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক পদে প্রার্থী হতে পারবেন না। এ ক্ষেত্রে রাজনীতি থেকে পদত্যাগ গ্রহণযোগ্য নয়।

 

সাধারণ সদস্য পদের জন্যে যাদের আবেদন অগ্রহণযোগ্য হবে, তাদেরকে সদস্য যাচাই-বাছাই উপ-কমিটির মতামত পাওয়ার পর কার্যকরী কমিটির সভায় চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের আলোকে এক সপ্তাহের মধ্যে প্রেস ক্লাবের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক মৌখিকভাবে/ লিখিতভাবে জানিয়ে দেবেন।

 

(চ) সাধারণ সদস্য এবং সম্মানিত সদস্যগণ বার্ষিক সদস্য চাঁদা হিসেবে প্রতিবছর ২,০০০/-(দুই হাজার) টাকা এবং কল্যাণ তহবিল চাঁদা হিসেবে বছরে ৫০০/-(পাঁচশত) টাকা করে জমা দিবেন। প্রয়োজনে কার্যকরী পরিষদ উক্ত চাঁদা পরিবর্তন করতে পারবেন।

 

 

অনুচ্ছেদ-০৫

সম্মানিত সদস্য :

এ ধরনের সদস্য বলতে তাঁদেরকে বোঝাবে যাঁরা চাঁদপুর প্রেসক্লাবে কমপক্ষে নিয়মিত দশ বছর সাধারণ সদস্য পদে ছিলেন, কিন্তু বর্তমানে তিনি সাধারণ সদস্য পদে থাকার কোটা/ যোগ্যতা হারিয়েছেন (বহিষ্কার ব্যতীত), সাংবাদিকতা থেকে অবসর নিয়েছেন কিংবা অন্য পেশায় নিয়োজিত আছেন। কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্তে এমন সদস্য পদ দেয়া যাবে।

 

এসব সদস্য নির্ধারিত মাসিক চাঁদা ও কল্যাণ তহবিলের বার্ষিক অনুদান পরিশোধ সাপেক্ষে সম্মানিত সদস্য পদ বহাল থাকবে। অন্যথায় সদস্য পদ বাতিল বলে গণ্য হবে।  এমন সদস্য পদ প্রদানে যাচাই-বাছাই উপ-কমিটির মতামত লাগবে না। সম্মানিত সদস্য প্রেসক্লাবের আচার-অনুষ্ঠানে অতিথি/ পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রিত হবেন। এঁদের মধ্যে কেউ যদি সাংবাদিকতায় ফিরে এসে সাধারণ সদস্য পদে আবেদনের যোগ্যতা অর্জন করেন তাহলে তাকে পুনরায় যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে এ সদস্য পদ লাভ করতে হবে।

 

অনুচ্ছেদ-০৬ 

(ক) আজীবন সদস্য :

যিনি কোনো আদালত কর্তৃক অভিযুুক্ত বা গুরুদ-ে দ-িত নন, (এর ব্যাখ্যা অনুচ্ছেদ-০৪ এর-        ‘ক’ ধারায় বর্ণিত), যিনি সমাজে ক্লিন ইমেজধারী অর্থাৎ সুশীল-সুধী সমাজের অন্তর্ভুক্ত বলে গণ্য, লেখালেখির সাথে সম্পৃক্ত, অরাজনৈতিক, সামাজিক ব্যক্তি হিসেবে সুপরিচিত, কমপক্ষে ¯œাতক ডিগ্রিধারী, তিনি যদি এককালীন ২,০০,০০০/-(দুই লক্ষ) টাকা অগ্রিম পরিশোধ সাপেক্ষে আবেদন করেন, তাহলে তাঁকে সদস্য যাচাই-বাছাই উপ-কমিটির মতামত ছাড়াই কার্যকরী পরিষদ সভায় উপস্থিত এক তৃতীয়াংশ জনের মতামতের ভিত্তিতে আজীবন সদস্য পদ প্রদান করা যাবে। এমন সদস্য সংগ্রহে প্রতি বছর পত্রিকায় বিজ্ঞপ্তি প্রদান করা যাবে। এটা একটি আলঙ্কারিক সদস্য পদ। এমন সদস্য পদ প্রাপ্তরা প্রেসক্লাবের বিভিন্ন আচার-অনুষ্ঠানে  অতিথি/ পর্যবেক্ষক হিসেবে আমন্ত্রিত হবেন, গঠনমূলক পরামর্শ দিতে পারবেন, কিন্তু ক্লাবের কোনো কাজে হস্তক্ষেপ করতে পারবেন না বা ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না। আজীবন সদস্য সংখ্যা অনূর্ধ্ব ৫০ (পঞ্চাশ) জন হবে। প্রতি বছর ০২ (দুই) জনের বেশি এমন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা যাবে না। মোট সদস্য সংখ্যা ৫০ (পঞ্চাশ) জন হয়ে গেলে তখন মৃত্যুজনিত কারণে ও স্বেচ্ছায় অব্যাহতি গ্রহণ সাপেক্ষে সৃষ্ট শূন্য পদে এবং সুনির্দিষ্ট আমলযোগ্য অভিযোগ, নৈতিক স্খলন, আদালত কর্তৃক দ-প্রাপ্ত (গুরুদ-) হয়ে কেউ আজীবন সদস্যপদ হারালে সৃষ্ট শূন্য পদেই কেবল নূতন আজীবন সদস্য অন্তর্ভুক্ত করা যাবে।

 

(খ) সম্মানিত আজীবন সদস্য :

চাঁদপুর প্রেসক্লাব ও ক্লাব সদস্যদের স্বার্থে বিশেষ অবদান রেখেছেন এমন ব্যক্তিদের সম্মানিত আজীবন সদস্য পদ প্রদানের ক্ষেত্রে উপরে উল্লেখিত আজীবন সদস্যদের যোগ্যতা হুবহু রক্ষার বিষয়টি বিবেচনায় না এনে বিশেষ বিবেচনায় আনতে হবে।

 

আজীবন সদস্য ও সম্মানিত আজীবন সদস্যদের মধ্যে কেউ যদি কালক্রমে সাধারণ সদস্য পদে আবেদনের যোগ্যতা অর্জন করেন তাহলে তাকে যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে এ সদস্য পদ লাভ করতে হবে।

 

অনুচ্ছেদ-০৭

আয়ের উৎস :

চাঁদপুর প্রেসক্লাবের আয়ের উৎস হবে প্রধানত ১। সদস্যদের ভর্তি ফিসহ বিভিন্ন ফি, নিয়মিত মাসিক চাঁদা, কল্যাণ তহবিল চাঁদা, বিভিন্ন অনুদান; ২। সরকারি-বেসরকারি পর্যায়ের কোনো আর্থিক অনুদান; ৩। হলরুম, ভবনের খালি জায়গা, দোকান ইত্যাদি ভাড়া,  প্রকাশনা, সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, আনন্দ ভ্রমণসহ বিভিন্ন বিনোদন ও ক্রীড়ামূলক অনুষ্ঠানাদির মাধ্যমে আয়। তবে কার্যকরী পরিষদ এ বিষয় পরিবর্তন/পরিবর্তন করতে পারবেন।

 

এছাড়া ক্লাবের কার্যকরী পরিষদের অনুমোদনকৃত বৈধ পন্থা/ কার্যক্রমের মাধ্যমেও আয় করা যাবে।

 

অনুচ্ছেদ-০৮

পরিষদ সমূহ :

ক্লাবের দুইটি পরিষদ থাকবে : ক) সাধারণ পরিষদ, গ) কার্যকরী পরিষদ সাধারণ পরিষদ বলতে বুঝাবে ক্লাবের ভোটাধিকার সম্পন্ন সাধারণ সদস্য। আর কার্যকরী পরিষদ বলতে বুঝাবে প্রেসক্লাব পরিচালনায় গঠিত এক বছর মেয়াদী কমিটি।

 

 

 

 

 

 

 

কার্যকরী পরিষদের আকার :

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের কার্যকরী পরিষদ হবে ৩৫ (পয়ত্রিশ) সদস্য বিশিষ্ট। এর কাঠামোতে থাকবে :-

সভাপতি - ০১ জন

সিনিয়র সহ-সভাপতি - ০১ জন

সহ-সভাপতি - ০৩ জন

সাধারণ সম্পাদক - ০১ জন

সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক - ০১ জন

যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক - ০২ জন

সাংগঠনিক সম্পাদক - ০৩ জন

কোষাধ্যক্ষ - ০১ জন

প্রচার ও দপ্তর সম্পাদক - ০১ জন

সাহিত্য, প্রকাশনা ও লাইব্রেরি সম্পাদক - ০১ জন

ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক - ০১ জন

সমাজকল্যাণ, আপ্যায়ন ও বিনোদন সম্পাদক - ০১ জন

তথ্য, প্রযুক্তি ও সেমিনার সম্পাদক - ০১ জন

নির্বাহী সদস্য - ১৭ জন

মোট - ৩৫ জন

 

উল্লেখ্য, কার্যকরী পরিষদের দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের মতামতের প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ ০২ (দুই) জনকে নির্বাহী সদস্য হিসেবে কো-অপ্ট করতে পারবেন।

 

অনুচ্ছেদ -৯

কার্যকরী পরিষদ সদস্যদের দায়িত্ব :

সভাপতি :

তিনি ক্লাবের নির্বাহী প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন; কার্যকরী পরিষদ ও সাধারণ সভাসহ বিভিন্ন সভায় সভাপ্রধান থাকবেন; ক্লাব পরিচালনায় সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য কার্যকরী পরিষদ সদস্যকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দেবেন; তিনি নিয়মতান্ত্রিভাবে ও তাৎক্ষণিক প্রয়োজনে কার্যকরী পরিষদ ও সাধারণ সভা আহ্বান করতে পারবেন এবং অনাহুত পরিস্থিতিতে সভা স্থগিত বা মুলতবি করতে পারবেন; ক্লাবের ও ক্লাবের সদস্যদের স্বার্থে জরুরি প্রয়োজনে এককভাবে বা সাধারণ সম্পাদকের সাথে আলোচনাক্রমে কার্যক্রম গ্রহণ করতে পারবেন এবং ক্লাব তহবিল থেকে ক্লাবের জরুরি প্রয়োজনে সর্বোচ্চ ৫০ (পঞ্চাশ) হাজার টাকা খরচ করতে পারবেন। তবে তা পরবর্তী কার্যকরী পরিষদ সভায় অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে। ক্লাবে কোনো কারণে অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে তা নিরসনে প্রেস ক্লাব নীতি নির্ধারণী পরিষদ কিংবা পক্ষ সমূহের সাথে আলোচনাক্রমে ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত ঘোষণা করতে পারবেন। সভাপতি হিসেবে তিনি সমকাল বিবেচনায় কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্দিষ্ট হারে সম্মানি পাবেন। সময়ান্তরে  যা পরিবর্তনযোগ্য।

 

সিনিয়র সহ-সভাপতি :

সভাপতির যে কোনো ধরনের অনুপস্থিতিতে সহ-সভাপতিদের মধ্যে যিনি সিনিয়র তিনি সভাপ্রধান হিসেবে যে কোনো সভা বা অনুষ্ঠান পরিচালনা করবেন। মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতা বা অন্য কোনো কারণে প্রেস ক্লাবের কার্যক্রমে সভাপতি নিয়মিত অংশগ্রহণ করতে না পারলে, না করতে চাইলে কিংবা ইচ্ছাকৃত/ অনিচ্ছাকৃত অপারগতা প্রকাশ করলে এ সময়সীমা যদি দুইমাস অতিক্রান্ত হয়ে যায়, তাহলে কার্যকরী পরিষদ সিনিয়র সহ-সভাপতিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব অর্পণপূর্বক আর্থিক ক্ষমতা প্রদান করতে পারবে। তবে সভাপতি পদত্যাগ করলে, বহিষ্কৃত হলে কিংবা মৃত্যুজনিত পদটি শূন্য হলে কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই সিনিয়র সহ-সভাপতি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে বিবেচিত হবেন, পরিচিত হবেন। তবে তাঁকে আর্থিক ক্ষমতায়নের বিষয়টিতে কার্যকরী পরিষদের অনুমোদন লাগবে। এ ক্ষেত্রে সিনিয়র সহ-সভাপতি এমন দায়িত্ব নিতে না চাইলে/ না পারলে পরবর্তী সহ-সভাপতিদের মধ্যে যিনি জ্যেষ্ঠ তিনি সে দায়িত্ব পাবেন। সভাপতি স্বেচ্ছায় চিকিৎসা/ বিদেশ ভ্রমণসহ অন্য যে কোনো কারণে স্বল্পÑদীর্ঘমেয়াদী ছুটিতে যাবার পূর্বে লিখিতভাবে সিনিয়র সহ-সভাপতিকে অথবা তাঁর অপারগতায় ক্রমানুসারে সহ-সভাপতিদের মধ্য থেকে একজন সহ-সভাপতিকে ভারপ্রাপ্ত সভাপতি হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে যাবেন। আর তখন কার্যকরী পরিষদের জরুরি সভা করে ব্যাংক হিসাব পরিচালনাসহ ভারপ্রাপ্ত সভাপতিকে অতি প্রয়োজনীয় আর্থিক ক্ষমতা প্রদানে ব্যবস্থাগ্রহণের জন্যে দায়িত্ব প্রদান করা হবে।

 

সভাপতি পদ শূন্য হলে সিনিয়র সহ-সভাপতি ভারপ্রাপ্ত সভাপতির দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হবেন। এরপর বিশেষ সাধারণ সভায়/ অর্ধ-বার্ষিক সাধারণ সভায় এজেন্ডা এনে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের মতামতের ভিত্তিতে সভাপতি নির্বাচিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে সিনিয়র সহ-সভাপতি অগ্রাধিকার পাবেন। তবে কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ দুই মাসের কম থাকলে ভারপ্রাপ্ত সভাপতিই দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

 

সাধারণ সম্পাদক :

তিনি নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে ক্লাবের যাবতীয় কার্যক্রম পরিচালনা করবেন;  সভাপতির সাথে পরামর্শক্রমে সকল সভা আয়োজন করবেন; সভার কার্যবিবরণী লিপিবদ্ধ ও সংরক্ষণ করবেন; বার্ষিক বাজেট প্রণয়ন করবেন; ক্লাবের পক্ষে সকল পত্র যোগাযোগ করবেন; কার্যকরী পরিষদ কর্তৃক ন্যাস্ত অন্যান্য দায়িত্ব পালন করবেন; বার্ষিক/ অর্ধ-বার্ষিক সাধারণ সভায় আয়-ব্যয়ের হিসাবসহ প্রতিবেদন পেশ করবেন। সাধারণ সম্পাদক  হিসেবে তিনি সমকালীন বিবেচনায় কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্দিষ্ট হারে সম্মানি পাবেন। যা সময়ান্তরে পরিবর্তন যোগ্য।

 

সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক :

সাধারণ সম্পাদক যে কোনো কারণে যদি অনুপস্থিত থাকেন, তাহলে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক নির্দিষ্ট দায়িত্ব বা কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্তের আলোকে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। সাধারণ সম্পাদক লাগাতার দুই মাস প্রেসক্লাবের নিয়মিত কার্যক্রমে অংশ না নিয়ে যদি নিষ্ক্রিয় থাকেন, অসুস্থতা জনিত কারণে অনুপস্থিত থাকেন, বিদেশ গমন করেন, ছুটি নেন, তাহলে কার্যকরী পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপ্রাপ্ত হবেন। তবে সাধারণ সম্পাদক পদত্যাগ করলে, বহিষ্কৃত হলে, মৃত্যুবরণ করলে কার্যকরী পরিষদের সিদ্ধান্ত ছাড়াই সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক বলে বিবেচিত হবেন, পরিচিত হবেন। তবে তাঁকে আর্থিক ক্ষমতায়নের বিষয়টিতে কার্যকরী পরিষদের অনুমোদন লাগবে।

 

সাধারণ সম্পাদকের পদ শূন্য হলে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হবেন। এরপর বিশেষ সাধারণ সভায়/ অর্ধ-বার্ষিক সাধারণ সভায় এজেন্ডা এনে উপস্থিত সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের মতামতের ভিত্তিতে সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত করা হবে। এ ক্ষেত্রে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অগ্রাধিকার পাবেন। তবে কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ দুই মাসের কম থাকলে ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করে যাবেন।

 

যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক :

সাধারণ সম্পাদকের শূন্য পদ পূরণে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকও যদি অপারগ হন বা করতে না চান, তাহলে যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদকদের মধ্য থেকে ক্রমানুসারে জ্যেষ্ঠতার ভিত্তিতে একজন ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন। অন্যান্য বিষয়ে যুগ্ম সাধারণ সম্পাদকের বেলায় যা রয়েছে তা হুবহু প্রযোজ্য হবে।

 

সাংগঠনিক সম্পাদক :

ক্লাবের সাংগঠনিক তৎপরতা ও শৃঙ্খলা বহাল রাখার ব্যাপারে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের পরামর্শক্রমে দায়িত্ব পালন করবেন এবং দায়িত্বপ্রাপ্ত সংশ্লিষ্ট উপ-কমিটিতে কাজ করবেন।

 

কোষাধ্যক্ষ :

ক্লাবের আয়-ব্যয়ের হিসাব সংরক্ষণ করবেন; বাজেট প্রণয়নে সাধারণ সম্পাদককে সহায়তা করবেন; ক্লাবের তহবিল বার্ষিক অডিট করার ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। আয়-ব্যয়ের ভাউচার সংরক্ষণ করবেন। তিনি ক্লাবের বার্ষিক/ অর্ধ-বার্ষিক সাধারণ সভায় আয়-ব্যয়ের হিসাব উপস্থাপন করবেন। তিনি কার্যকরী পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিতহারে সম্মানী প্রাপ্ত হবেন।

 

দপ্তর সম্পাদক :

সকল সভার কার্যবিবরণী লিপিবদ্ধকরণে সাধারণ সম্পাদককে সহযোগিতা প্রদানসহ অফিসের যাবতীয় কাগজপত্র সততার সাথে সংরক্ষণ করবেন। তিনি কার্যকরী পরিষদ কর্তৃক নির্ধারিতহারে সম্মানী প্রাপ্ত হবেন।

 

অন্যান্য সম্পাদক ও নির্বাহী সদস্যগণ :

তাঁরা কার্যনির্বাহী পরিষদ কর্তৃক ন্যাস্ত সকল দায়িত্ব পালন করবেন।

সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক ব্যতীত অন্যান্য পদ শূন্য হলে পরবর্তী কার্যকরী পরিষদের সভায় এজেন্ডা এনে দুই-তৃতীয়াংশের মতামতের ভিত্তিতে শূন্য পদ পূরণ করা যাবে। এ ক্ষেত্রেও কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ দুই মাসের কম হলে পদটি শূন্যই থাকবে।

 

অনুচ্ছেদ -১০

সভা আহ্বান, কোরাম ইত্যাদি :

ক) কার্যকরী পরিষদের সভা প্রতি দুইমাসে কমপক্ষে একটি করতে হবে। বছরে অন্তত ছয়টি কার্যকরী পরিষদের সভা করতে হবে। ৩ থেকে ৭ তিন পূর্বে নির্দিষ্ট এজেন্ডা উল্লেখ পূর্বক নোটিশ প্রদান করতে হবে।

খ) কার্যকরী পরিষদের জরুরি সভা : বিশেষ প্রয়োজনে ২৪ ঘন্টা বা তাৎক্ষণিক নোটিশে এ সভা আহ্বান করা যাবে।

গ) প্রতি বছর দুটি সাধারণ সভা অনুষ্ঠিত হবে। একটি অর্ধ বার্ষিক ও অন্যটি বার্ষিক। ০৬ মাস ব্যবধানে এ সভা দুটি আহ্বান করতে হবে। নির্দিষ্ট এজেন্ডা উল্লেখপূর্বক সভার নোটিশ ১৫ দিন পূর্বে ইস্যু করে প্রত্যেক সাধারণ সদস্যের ঠিকানায় ডাকযোগে/ ডিজিটাল প্রযুক্তি/ বাহক মারফত পৌঁছে দিতে হবে। গঠনতন্ত্র সংশোধনসহ অন্য যে কোনো জরুরি প্রয়োজনে উক্ত দুটি সাধারণ সভা ছাড়াও সুবিধাজনক সময়ে সাধারণ সভা আহ্বান করা যাবে। তবে এ ধরনের সভা বিশেষ সাধারণ সভা হিসেবে অভিহিত হবে।  এ বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বানে এজেন্ডা উল্লেখপূর্বক অন্ততঃ তিন দিন পূর্বে নোটিশ প্রদান করতে হবে।

ঘ) এক তৃতীয়াংশ সদস্যের উপস্থিতিতে যে কোনো সভায় কোরাম হবে। কোরামপূর্ণ সভায় যে কোনো সিদ্ধান্ত গ্রহণে (গঠনতন্ত্রে বিশেষায়িত/ চিহ্নিত সভা ছাড়া) উপস্থিত সদস্যদের অধিকাংশজনের মতামত লাগবে। কোনো সভায় কোরাম না হলে সভা মুলতবি করে স্বল্প সময়ের (সর্বোচ্চ এক সপ্তাহ) ব্যবধানে বিনা নোটিসে সভা আহ্বান করা যাবে। তবে তখন কোরামের প্রয়োজন হবে না।

(ঙ) প্রাকৃতিক দুর্যোগ, মহামারী, যুদ্ধ, কারফিউ বন্যাসহ অন্য যে কোনো কারণে শারীরিক উপস্থিতিতে নির্দিষ্ট সময়ে কোনো সভা করতে না পারার মতো পরিস্থিতির উদ্ভব হলে নির্দিষ্ট প্রযুক্তি ব্যবহার করে ভার্চুয়াল সভা করা যাবে। এ ধরনের সভার ডকুমেন্ট সংরক্ষণ করতে হবে তথা পুরো ভার্চুয়াল সভার রেকর্ড কমিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তি সংরক্ষণ করবেন এবং সে আলোকে সভার কার্যবিবরণী ও সিদ্ধান্ত সমূহ লিপিবদ্ধ করে পরবর্তী সভায় তা অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।

 

অনুচ্ছেদ: ১১

কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ ও আর্থিক বছর :

জানুয়ারি-ডিসেম্বর মাস আর্থিক বছর এবং এই এক বছরই চাঁদপুর প্রেসক্লাবের প্রতিটি কার্যকরী পরিষদের মেয়াদ হিসেবে গণ্য হবে। বিদায়ী কমিটি নবনির্বাচিত কমিটিকে ৫ জানুয়ারির মধ্যে দায়িত্ব হস্তান্তর ও বুঝিয়ে দিতে বাধ্য থাকবেন।

 

 

 

অনুচ্ছেদ: ১২

তহবিল পরিচালনা :

(ক) ক্লাবের তহবিল বাংলাদেশের যে কোনো রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংক/ সরকারি-বেসরকারি তফসিলি ব্যাংকের চাঁদপুরস্থ যে কোনো শাখায় এক বা একাধিক হিসাব নম্বরে ‘চাঁদপুর             প্রেসক্লাব’ নামে রক্ষিত থাকবে।

(খ) সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও কোষাধ্যক্ষের যৌথ স্বাক্ষরে ব্যাংক হিসাব পরিচালিত হবে। তবে কোষাধ্যক্ষসহ যে কোনো দু’জনের যৌথ স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা যাবে।

(গ) ক্লাবের জরুরি প্রয়োজন মেটানোর জন্যে সাধারণ সম্পাদক সর্বোচ্চ ৫০,০০০/-(পঞ্চাশ হাজার) টাকা হস্ত মজুদ রাখতে পারবেন।

(ঘ) ক্লাবের ব্যাংক হিসাব থেকে উত্তোলিত যে কোনো অঙ্কের অর্থ ব্যয়ের হিসাব পরবর্তী কার্যকরী পরিষদ সভায় উত্থাপন করে অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।

(ঙ) প্রতি বছর কার্যকরী পরিষদ কর্তৃক অনুমোদিত ইন্টারন্যাল (অভিজ্ঞ ক্লাব সদস্য দ্বারা গঠিত) ও এক্সটার্নাল (পেশাদার অডিটর) দু’প্রকার অডিট টিম দ্বারা ক্লাব তহবিলের অডিট বা নিরীক্ষা সম্পন্ন করতে হবে। আর্থিক বছর শেষ হবার কমপক্ষে ২০ দিন পূর্বে অডিট টিম গঠন অথবা অনুমোদন পূর্বক অডিট কার্যক্রম শুরু করতে হবে। ইন্টারন্যাল অডিটর হবে ০৩ জন, যা কার্যকরী পরিষদের সভায় অনুমোদিত হবে।

 

 

অনুচ্ছেদ : ১৩

উপদেষ্টা মন্ডলী :

প্রতিষ্ঠাতা সদস্যগণসহ ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সদস্যদের সমন্বয়ে ০১ (এক) বছর মেয়াদী অনূর্ধ্ব ১৫(পনের) সদস্য বিশিষ্ট উপদেষ্টা ম-লী থাকবে। উপদেষ্টাগণ ক্লাবের সুখে-দুঃখে, দুর্যোগে-দুর্বিপাকে বিবেকী ভূমিকা পালন করবেন। প্রতি বছর ক্লাবের কার্যকরী পরিষদ গঠনের পর উপদেষ্টা পরিষদও এক বছরের জন্য গঠন করা হবে। উপদেষ্টা মনোনয়নের ক্ষেত্রে পেশাদার সাংবাদিক, অরাজনৈতিক ব্যক্তি ও সর্বজন শ্রদ্ধেয় বা সম্মানিত ব্যক্তিগণকে অগ্রাধিকার দেয়া বাঞ্ছনীয় হবে।

 

অনুচ্ছেদ : ১৪

কার্যকরী পরিষদ গঠন :

এক বছর মেয়াদী কার্যকরী পরিষদ প্রধানতঃ সমঝোতা প্রক্রিয়ায় গঠিত হবে। ১৫ (পনর) সদস্য বিশিষ্ট সমঝোতা কমিটি মধ্য নভেম্বর থেকে মধ্য ডিসেম্বরের মধ্যে (এক মাস) সমঝোতার প্রচেষ্টা চালাবে। তাঁদের অধিকাংশ সদস্য সমঝোতা প্রচেষ্টায় সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক পদে মনোনয়নে একমত হলে নির্বাচন লাগবে না। অন্যথায় প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলকভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। পূর্ণাঙ্গ কমিটি গঠন করার ক্ষেত্রে নবনির্বাচিত সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের সাথে সমঝোতা কমিটি পরামর্শ করবে। আনুষ্ঠানিক নির্বাচনী প্রক্রিয়া হবে নিম্নরূপ:

ক) কার্যকরী পরিষদের নির্বাচন প্রয়োজন হলে প্রতিবছর ডিসেম্বর মাসের শেষ সপ্তাহের মধ্যে করে ফেলতে হবে। নির্দিষ্ট সময়ে নির্বাচন করা না গেলে জরুরিভাবে সাধারণ সভা ডেকে নির্বাচনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে হবে। সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক জরুরি সাধারণ সভা আহ্বানে অপারগতা প্রকাশ করলে/ গড়িমসি ভাব দেখালে সিনিয়র সহ-সভাপতি কিংবা পর্যায়ক্রমে সহ-সভাপতিগণের যে কেউ এমন সভা আহ্বানের ক্ষমতা রাখবেন এবং এক-তৃতীয়াংশ সাধারণ সদস্যের উপস্থিতিতে অর্থাৎ কোরাম পূর্ণকরণ সাপেক্ষে নির্বাচনের বিষয়ে উপস্থিত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের ঐকমত্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে বাস্তবায়নের যাবতীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবেন।

খ) নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা অবশ্যই ভোটাধিকার সম্পন্ন সাধারণ সদস্যদের মধ্যে তারাই করতে পারবেন, যারা উক্ত সদস্য পদে অন্ততঃ তিন বছর যাবৎ আছেন। তবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন প্রেস ক্লাবের ওই সকল সাধারণ সদস্য যিনি কমপক্ষে ¯œাতক বা সমমানের ডিগ্রিধারী হবেন এবং তাঁকে কার্যকরী পরিষদে কমপক্ষে তিনবছর দায়িত্ব পালনের অভিজ্ঞতা থাকতে হবে।

গ) বকেয়া মাসিক চাঁদা ও কল্যাণ তহবিলে বার্ষিক অনুদান সম্পূর্ণ পরিশোধ সাপেক্ষে কোষাধ্যক্ষের নিকট থেকে ঘোষিত নির্ধারিত সময়ে রসিদ সংগ্রহ পূর্বক একজন সাধারণ সদস্য নিজেকে ভোটাধিকার সম্পন্ন বলে দাবি করতে পারবেন।

ঘ) নির্বাচনের তারিখ ঘোষিত হলে কোষাধ্যক্ষ প্রতিষ্ঠাতা সদস্য/ সাধারণ সদস্যদের নিকট বকেয়া মাসিক চাঁদা ও কল্যাণ তহবিলের অনুদান পরিশোধের সর্বনি¤œ ৫দিন/ ৭দিনের সময়সীমা দিয়ে নোটিশ পাঠাবেন। এ সময়সীমার মধ্যে যারা উক্ত চাঁদা-অনুদান হালনাগাদভাবে পরিশোধ করে রসিদ সংগ্রহ করবেন, কেবলমাত্র তারাই ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবেন। কোষাধ্যক্ষ থেকে রিপোর্ট সংগ্রহপূর্বক নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা প্রকাশ করবেন।

ঙ) দায়িত্বরত সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক সদ্য ঘোষিত নির্বাচনে একই পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারবেন না। তবে তাঁরা দুই বছর বিরতি দিয়ে পরবর্তীতে প্রার্থী হতে পারবেন। একই ব্যক্তির সভাপতি পদে দুইবার এবং সাধারণ সম্পাদক পদে দুই বারের বেশি দায়িত্ব পালনের সুযোগ থাকবে না।

চ) নির্বাচনের জন্যে অত্র অনুচ্ছেদ-১৪-এর (ক) ধারা অনুযায়ী জরুরি সভায় গৃহীত সিদ্ধান্ত মোতাবেক নির্বাচন পরিচালনা কমিটি বা নির্বাচন কমিশন গঠন করতে হবে। প্রেস ক্লাবের ভেতর-বাইরের লোকজনকে নিয়ে নির্বাচন কমিশন তিন থেকে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট হবে, যাদের সার্বজনীন গ্রহণযোগ্যতা থাকবে। এই নির্বাচন কমিশন কার্যকরী পরিষদ কর্তৃক মনোনীত হবেন। কমিশনের কেউ প্রার্থী হতে পারবেন না।

ছ) নির্বাচন কমিশন নির্বাচনের তারিখ, সময় ও তফসিলসহ যাবতীয় নিয়মাবলি (প্রেস ক্লাবের গঠনতন্ত্র অনুসারে) প্রণয়ন করবেন। নির্বাচন কমিশন দায়িত্বপ্রাপ্তির পর ১০ থেকে ১৫ দিনের মধ্যে নির্বাচনী কার্যক্রম সমাপ্ত করবেন। ভোট গ্রহণ সমাপ্ত হবার সঙ্গে সঙ্গে ভোট গণনা করে ফলাফল ঘোষণা করবেন। নির্বাচন কমিশন কার্যকরী পরিষদ স্বীকৃত নির্বাচনী নীতিমালা অথবা অত্র অনুচ্ছেদ-১৪-এর (ক) ধারা অনুযায়ী জরুরি সাধারণ সভার সিদ্ধান্তের আলোকে প্রণীত নির্বাচনী নীতিমালা অনুসরণ করবেন। এ নীতিমালা প্রণয়নে আইনী গ্রহণযোগ্যতার স্বার্থে প্রেসক্লাবের পক্ষ থেকে একটি উপ-কমিটি গঠন করতে হবে। এ উপ-কমিটি সরকারের স্থানীয় নির্বাচন অফিসের সাথে যোগাযোগ করে প্রয়োজনীয় পরামর্শ গ্রহণ করবে।

জ) সমঝোতা প্রক্রিয়ায় বা নির্বাচনের মাধ্যমে কোনো কারণে নতুন কমিটি গঠনে বিলম্ব ঘটলে বিদ্যমান বা চলমান কমিটি অন্তর্বর্তীকালীন সময়ে কার্যক্রম চালিয়ে যাবে।

 

অনুচ্ছেদ -১৫

বিভিন্ন উপ-কমিটি :

প্রেস ক্লাবের সামগ্রিক কার্যক্রমে গতিশীলতা আনয়ন এবং ক্লাব সদস্যসহ চাঁদপুরের সমগ্র মিডিয়া জগতে শৃঙ্খলা রক্ষা ও স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠায় এক বছর মেয়াদী কমপক্ষে চারটি উপ-কমিটি গঠন করতে হবে। কার্যকরী পরিষদ গঠনের পরই এ কমিটিগুলো ঘোষণা করা যাবে। উপ-কমিটিগুলো হবে পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট। এর বাইরে প্রত্যেক উপ-কমিটিতে পদাধিকারবলে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক সদস্য থাকবেন। উপ-কমিটিগুলো হবে নিস্নরূপ :

(ক) সদস্য যাচাই-বাছাই উপ-কমিটি, (খ) অবকাঠামো উন্নয়ন উপ-কমিটি, (গ) শৃঙ্খলা উপ-কমিটি, (ঘ) সাংবাদিক কল্যাণ তহবিল উপ-কমিটি। এ সকল উপ-কমিটি কার্যকরী পরিষদের নিকট দায়বদ্ধ থাকবে এবং জবাবদিহিতায় বাধ্য থাকবে। কার্যকরী পরিষদ এ সকল উপ-কমিটির সব ক’টি কিংবা অনিবার্য কারণে কিংবা কোনো অমার্জনীয় ব্যর্থতা ও অভিযোগের ভিত্তিতে স্থগিত/ বাতিল কিংবা পুনর্গঠন করতে পারবে। বাতিল/ স্থগিত সিদ্ধান্তের পূর্বে আহ্বায়ককে লিখিতভাবে আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্যে সুযোগ দিতে হবে। চলতি বছরের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক কোনো উপ-কমিটির আহ্বায়ক/ যুগ্ম আহ্বায়ক/ সদস্য সচিব থাকতে পারবেন না। তবে পদাধিকার বলে তাঁরা সকল উপ-কমিটির সদস্য থাকবেন এবং তাঁদের জ্ঞাতসারে সভা আহ্বান করে প্রত্যেক উপ-কমিটির আহ্বায়ক তাঁদেরকে উপস্থিত থাকার সৌজন্যমূলক আমন্ত্রণ জানাবেন। উপ-কমিটির কার্যক্রম তদারকিতে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বিশেষ অধিকার ভোগ করবেন। সেজন্যে নি¤েœাক্ত চারটি গুরুত্বপূর্ণ উপ-কমিটিতে ১ জন করে সাংগঠনিক সম্পাদকের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করতে হবে।

ক) সদস্য যাচাই-বাছাই উপ-কমিটি : প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি/ সাবেক সাধারণ সম্পাদক অথবা প্রবীণ ও অভিজ্ঞতা সম্পন্ন সদস্যদের মধ্য থেকে একজনকে আহ্বায়ক করে এ উপ-কমিটি গঠন করা যাবে। প্রেস ক্লাবের আজীবন ও সম্মানিত সদস্য ব্যতীত শুধুমাত্র ভোটাধিকার সম্পন্ন সাধারণ সদস্য পদে অন্তর্ভুক্তির জন্যে এ উপ-কমিটি গঠনতন্ত্রের নির্দিষ্ট ধারা-উপধারার আলোকে যাচাই-বাছাই কার্যক্রম সম্পন্ন করবে। সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদকের নিকট থেকে সাধারণ সদস্য পদে আবেদন/ আবেদনসমূহ গ্রহণ করার পর এই উপ-কমিটি সর্বনি¤œ ১৫(পনর) দিন থেকে সর্বোচ্চ ০২ (দুই) মাস সময়ের মধ্যে যাচাই-বাছাই সংক্রান্ত সুনির্দিষ্ট মতামত সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদকের নিকট উপস্থাপন করবে। এর ব্যত্যয় ঘটলে সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।

খ) অবকাঠামো উন্নয়ন উপ-কমিটি : এ উপ-কমিটি অত্র অনুচ্ছেদের ভূমিকায় বর্ণিত বিবরণ অনুযায়ী সর্বোচ্চ ০৭ (সাত) সদস্য বিশিষ্ট হবে। প্রেস ক্লাবের সাধারণ সদস্যদের মধ্যে যিনি অবকাঠামো নির্মাণ সংক্রান্ত যাবতীয় কাজে কম-বেশি অভিজ্ঞ তাঁকেই এ উপ-কমিটির আহ্বায়ক করতে হবে। এ উপ-কমিটি প্রেস ক্লাবের যাবতীয় উন্নয়ন কাজের পরিকল্পনা প্রণয়ন, তদারকি ও পরামর্শ প্রদানের ক্ষেত্রে কার্যকরী পরিষদকে সহযোগিতা করবে।

গ) শৃঙ্খলা উপ-কমিটি: প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি/ সাবেক সাধারণ সম্পাদকের মধ্য থেকে একজনকে আহ্বায়ক এবং একজনকে সদস্য সচিব করে এ উপ-কমিটি গঠন করতে হবে। এ কমিটি প্রেস ক্লাবের সদস্যসহ চাঁদপুরের সর্বস্তরের সাংবাদিকদের মধ্যে যারা শিষ্টাচার বহির্ভূত, সাংবাদিকতার নীতিমালা পরিপন্থী ও সাংবাদিক সমাজকে হেয় করার মতো কর্মকা- করবে, তাদের বিরুদ্ধে সু-নির্দিষ্ট কোনো মৌখিক/ লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে কিংবা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারবে। এ ছাড়া এ উপ-কমিটি সামগ্রিকভাবে সাংবাদিক সমাজের ভাবমূর্তি উজ্জ্বলকরণে প্রয়োজনীয় ইতিবাচক কর্মসূচি প্রণয়ন করে তা বাস্তবায়নে কার্যকরী পরিষদের সহযোগিতা চাইতে পারবে।

এ উপ-কমিটির নিকট যদি স্থানীয় পত্রিকার কোনো সংবাদকর্মীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা অনুভূত হয়, তাহলে সংশ্লিষ্ট পত্রিকার সম্পাদক/ প্রকাশক/ ভারপ্রাপ্ত সম্পাদকের সাথে যোগাযোগ সাপেক্ষে তা করতে হবে কিংবা পত্রিকা কর্তৃপক্ষকে  ঘরোয়াভাবে এ উপ-কমিটির সাথে সে অভিযোগের শিকার সংবাদকর্মীকে সংশোধিত হবার সুযোগ গ্রহণে প্রণোদিত করতে হবে। এ ক্ষেত্রে ব্যর্থতায় উপ-কমিটি সুনির্দিষ্ট মতামত/ সুপারিশ কার্যকরী পরিষদের নিকট দাখিল করবেন।  প্রেসক্লাবের যে কোনো পর্যায়ের সদস্য ডিজিটাল মাধ্যম, সামাজিক যোগাযোগ বা গণমাধ্যমে প্রেসক্লাব এবং সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কোনো ধরনের মিথ্যা ও মানহানিকর সংবাদ, মন্তব্য বা পোস্ট প্রচার করলে এই কমিটি স্বপ্রণোদিত হয়ে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া শেষে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক বরাবর প্রতিবেদন দাখিল করবেন। এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যকরী পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত গৃহীত হবে।

 

অনুচ্ছেদ -১৬

সদস্যপদ খারিজ:

(ক) যদি কোনো পত্রিকা/ টিভি/ বেতার/ অনলাইন ইত্যাদি মিডিয়ার প্রকাশনা কার্যক্রম বন্ধ হয়ে যায় এবং এর সময়সীমা এক বছর অতিক্রম করে তাহলে উক্ত মিডিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির  প্রেস ক্লাবের সাধারণ সদস্যের সদস্যপদ আপনা আপনি বাতিল হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট সময় শেষে ক্লাবের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক উক্ত সদস্যকে অবহিতকরণ পত্র দিতে হবে।

(খ) একটি নির্দিষ্ট মিডিয়ার সাথে সংশ্লিষ্ট থেকে প্রেস ক্লাবের কোনো সাধারণ সদস্য যদি ওই প্রতিষ্ঠানে সংবাদ প্রেরণসহ অন্য দায়িত্ব পালনে নিষ্ক্রিয় হন বা বিরত থাকেন তাহলে কার্যকরী পরিষদ ওই মিডিয়া কর্তৃপক্ষ থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের ভিত্তিতে তার সদস্য পদ বাতিলের সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারবে। এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট সময় শেষে ক্লাবের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক উক্ত সদস্যকে অবহিতকরণ পত্র দিতে হবে।

(গ) প্রেস ক্লাবের সাধারণ সদস্য পদ প্রাপ্তির পর কোনো সাধারণ সদস্য যদি সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকুরিতে যোগদান করেন তাহলে আপনাআপনি তার সদস্যপদ বাতিল হয়ে যাবে। এ ব্যাপারে নির্দিষ্ট সময় শেষে ক্লাবের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক কর্তৃক উক্ত সদস্যকে অবহিতকরণ পত্র দিতে হবে।

(ঘ) সর্বোচ্চ ১০ (দশ) মাসের মাসিক চাঁদা ও কল্যাণ তহবিলের অনুদান বকেয়া পড়লে এবং এ ব্যাপারে বার বার লিখিত/ মৌখিক তাগিদ সত্ত্বেও যদি কোনো সাধারণ সদস্য তা পরিশোধ না করেন তাহলে তিনি ১১ (এগারো) মাসের মাথায়  আপনাআপনি তার সদস্যপদ হারাবেন। তবে তিনি পরবর্তী এক মাসের মধ্যে বকেয়া পরিশোধ করলে সাধারণ সদস্য পদে যাচাই-বাছাই উপ-কমিটির মতামত ছাড়াই কার্যকরী পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে পুনর্বহাল হবেন। ০৭ মাস অতিক্রমের পর তাকে কারণ/ কৈফিয়ত প্রদানের জন্যে ০৭ দিনের সময় দিয়ে সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক/ কোষাধ্যক্ষ-এর মধ্যে যে কোনো একজন পত্র দিবেন। এ পত্রের জবাব প্রাপ্তির পর কার্যকরী পরিষদে উত্থাপন পূর্বক গ্রহণযোগ্য হলে তিনি সদস্য পদে পুনর্বহাল হয়ে সমুদয় বকেয়া পরিশোধ করবেন। আর অগ্রহণযোগ্য হলে তিনি স্থায়ীভাবে সাধারণ সদস পদ হারাবেন।

(ঙ) অনৈতিক কার্যকলাপ এবং প্রেসক্লাবের গঠনতন্ত্র লঙ্ঘন ও শৃঙ্খলা পরিপন্থী কর্মকা-ে লিপ্ত হয়ে সাংবাদিক সমাজ ও মিডিয়া জগতের ভাবমূর্তি ক্ষুণœকারী যে কোনো প্রকার সদস্যই সদস্য পদ বাতিল প্রক্রিয়ার মুখোমুখি হবেন। তাকে কার্যকরী পরিষদ কারণ দর্শানোর নোটিশ প্রদানের পর জবাব যদি কার্যকরী পরিষদের পরবর্তী সভায় অগ্রহণযোগ্য বলে বিবেচিত হয় তাহলে তিনি সদস্য পদ হারাবেন।

 

অনুচ্ছেদ -১৭

সদস্যপদ পুনর্বহাল :

(ক) যদি কোনো সাধারণ সদস্যের সদস্যপদ অনুচ্ছেদ-১৬ (ক) ধারা মোতাবেক খারিজের উপক্রম হয় তাহলে তিনি নূতন মিডিয়ার নিয়োগপত্র/ পরিচয়পত্র সংগ্রহ করে নির্দিষ্ট সময়সীমায় অর্থাৎ এক বছর সময়ের মধ্যে সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক বরাবরে সদস্যপদ বহাল রাখার নিমিত্তে আবেদন করতে পারবেন। এ আবেদনে সংযুক্ত নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্রের সঠিকতা প্রমাণিত হলে তার সদস্যপদ আপনাআপনি পুনর্বহাল হবে।

(খ) কোনো সাধারণ সদস্য মিডিয়া পরিবর্তন করে নিয়োগপত্র ও পরিচয়পত্রের সত্যায়িত ফটোকপিসহ সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক বরাবরে অবহিতকরণপত্র প্রদান করলে তা যাচাই-বাছাই উপ-কমিটির কাছে প্রেরণ করা হবে। উক্ত কমিটির মতামত কার্যকরী কমিটির কাছে প্রদান করবে। কার্যকরী কমিটি এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে।

(গ) স্থানীয় দৈনিক/ সাপ্তাহিক পত্রিকায় সম্পাদকের অনুমোদন সাপেক্ষে যে কোনো সময় পত্রিকার কোটা ভিত্তিক সদস্য পদ পরিবর্তন কিংবা সৃষ্ট শূন্যতা পূরণের জন্যে সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক বরাবরে পত্র দেয়া যাবে। তবে প্রস্তাবিত  সাধারণ সদস্য পদপ্রার্থী সদস্য যাচাই-বাছাই উপ-কমিটির কার্যক্রমের আওতায় আসবে। এ কমিটির মতামতের ভিত্তিতেই গঠনতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় প্রেসক্লাবের সাধারণ সদস্য পদে তার অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত হবে কিংবা অগ্রহণযোগ্য হবে।

 

অনুচ্ছেদ -১৮

মৃত্যুজনিত শূন্যতা :

কার্যকরী পরিষদের সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক যদি কর্মরত অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন তাহলে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী সিনিয়র  সহ-সভাপতি, তাঁর অপারগতায় ক্রমিক নং অনুসারে সম্মতি সাপেক্ষে জ্যেষ্ঠতম ১ জন সহ-সভাপতি ভারপ্রাপ্ত সভাপতি এবং একই প্রক্রিয়ায় সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক/ যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক (ক্রমানুসারে) ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করবেন। শূন্য পদ পূরণে অনুচ্ছেদ-০৯ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

 

অনুচ্ছেদ -১৯

বহিষ্কার :

প্রেস ক্লাবের যে কোনো প্রকারের সদস্য সাংবাদিকতার মর্যাদাহানিকর, প্রেস ক্লাবের ভাবমূর্তি, আর্থিক দুর্নীতি ও অর্থ আত্মসাথের সাথে জড়িত, ক্লাবের সুনাম ও স্বার্থহানিকর  কোনো কর্মকান্ডে লিপ্ত হলে অভিযোগের প্রেক্ষিতে অভিযোগের ধরন অনুযায়ী কার্যকরী পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের যৌথ সিদ্ধান্তে অভিযুক্তকে কারণ দর্শানো পূর্বক কার্যকরী পরিষদ ব্যবস্থা নিবে। অভিযোগের অধিকতর তদন্তের প্রয়োজনে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক উক্ত বিষয়ে শৃঙ্খলা উপ-কমিটিকে পত্র দিয়ে তদন্তের দায়িত্ব প্রদান করবেন। কমিটি এ বিষয়ে সর্বোচ্চ ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে। এ বিষয়ে পরবর্তী কার্যকরী কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। কার্যকরী পরিষদ সভায় উপস্থিত দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিতে অভিযুক্ত সদস্য ক্লাব থেকে চূড়ান্তভাবে বহিষ্কার করা হবে। ওই সদস্যকে বহিষ্কারের বিষয়টি পত্র অথবা পত্রিকা মারফত জানিয়ে দেয়া যাবে।

 

অনুচ্ছেদ-২০

তলবী সভা :

ছয় মাস যাবৎ প্রেসক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ কার্যকরী পরিষদের অধিকাংশ সদস্য নিষ্ক্রিয় হয়ে থাকলে এবং এ ব্যাপারে বিদ্যমান সমঝোতা কমিটির দৃষ্টি আকর্ষণ করে সাড়া পাওয়া না গেলে ক্লাবকে গতিশীল করার মহৎ উদ্দেশ্যে সাধারণ সদস্যদের দুই-তৃতীয়াংশের যৌথ স্বাক্ষরে তলবী সভা আহ্বান করা যাবে। সেখানে সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদকের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাবসহ জরুরি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা যাবে।

 

অনুচ্ছেদ-২১

পদত্যাগ :

যে কোনো সাধারণ সদস্য/ সম্মানিত সদস্য/ কার্যনির্বাহী সদস্য ইচ্ছা করলে পদত্যাগ করতে পারবেন। তবে তিনি পদত্যাগের উপযুক্ত কারণ উল্লেখ করে সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক/ দপ্তর সম্পাদকের নিকট পদত্যাগপত্র জমা দিবেন।  সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক তা বিবেচনার জন্যে কার্যকরী পরিষদ সভায় উত্থাপন করবেন এবং তা গৃহীত হলে পদত্যাগ কার্যকর হবে। সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদক পদত্যাগ করতে চাইলে সিনিয়র সহ-সভাপতির কাছে বা ক্রমানুসারে জ্যেষ্ঠ সহ-সভাপতির কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিবেন। সাধারণ সম্পাদক সভাপতির কাছে পদত্যাগ পত্র জমা দিবেন। এ বিষয়ে কার্যকরী পরিষদের সভায় সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।

 

অনুচ্ছেদ-২২

প্রেস ক্লাবের নীতি নির্ধারণী কমিটি:

কোনো গুরুতর কারণে ক্লাব পরিচালনায় ক্লাব কর্তৃপক্ষের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কিংবা সম্পূর্ণ অচলাবস্থা সৃষ্টি হলে সে ক্ষেত্রে যে কোনো সময় যে কোনো সদস্য/ শুভাকাক্সক্ষীর মধ্যস্থতায় সমঝোতার উদ্যোগ নেয়া যাবে। ২০০৯ সালের ডিসেম্বরে চাঁদপুর প্রেসক্লাবের অচলাবস্থা নিরসনে বিদ্যমান দু’টি পৃথক কমিটি থেকে ১৫ জনকে নিয়ে ৫ বছরের জন্যে গঠিত সমঝোতা কমিটির কর্মকা- সে অর্থে বৈধ। এ কমিটির গৃহীত পদক্ষেপ গ্রহণযোগ্য ও প্রশংসনীয় বলে সকল মহলে স্বীকৃত। যার মূল্যায়ন স্বরূপ ২০১৪ সাল পর্যন্ত মেয়াদের এ সমঝোতা কমিটির মেয়াদ ২০১২ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে ২০১৯ সাল পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। তারপর ২০১৯ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায় সমঝোতা কমিটিসহ গঠনতন্ত্রের নানা বিষয়ে সংশোধনী আনয়নে একটি উপ-কমিটি গঠন করা হয়। গঠনতন্ত্রের গুরুত্বপূর্ণ আরো কিছু সংশোধনের দায়িত্ব অর্পণ করা হয় উক্ত সভায় গঠিত গঠনতন্ত্র সংশোধন উপ-কমিটির সদস্যদের উপর। এই সদস্যরা ০৩ আগস্ট ২০২০ তারিখে এক সভায় মিলিত হয়ে সম্পূর্ণ (শতভাগ) ঐকমত্যের ভিত্তিতে সমঝোতা কমিটির মেয়াদ ০৫ (পাঁচ) বছর অর্থাৎ ২০২৪ সাল পর্যন্ত বৃদ্ধির প্রস্তাব করেন। উক্ত প্রস্তাব ২৫/০৯/২০২০ খ্রি. তারিখে অনুষ্ঠিত অর্ধ-বার্ষিক সাধারণ সভায় সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন লাভ করে। সমঝোতা কমিটির মেয়াদ শেষের পূর্বে কিংবা নিকটবর্তী পরে অনুষ্ঠেয় অর্ধ-বার্ষিক/ বার্ষিক সাধারণ সভা কিংবা বিশেষ সাধারণ সভায় উক্ত সমঝোতা কমিটির মেয়াদ অনিবার্য প্রয়োজনের নিরিখে বাড়ানো যাবে। অন্যথায় এ কমিটি আপনাআপনি বিলুপ্ত হয়ে যাবে। ২০২০ সালে গঠিত সমঝোতা কমিটি মেয়াদ ২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে শেষ হয়।

 

এরপর ২০২৫ সালে ২৯ নভেম্বর বিশেষ সাধারণ সভার মাধ্যমে ২০৩০ সাল পর্যন্ত ‘প্রেস ক্লাব নীতি নির্ধারণী কমিটি’ নামে   একটি কমিটি গঠন করা হয়। ২০৩০ সালের পরব এই কমিটি গঠনতন্ত্র সংশোধন করে মেয়াদ বাড়ানো না হলে আর কোনো কার্যকরী পরিষদ গঠন করতে পারবে না।

 

‘প্রেস ক্লাব নীতি নির্ধারণী কমিটি’র কর্মপ্রক্রিয়া:

এই কমিটির প্রধান কাজ হচ্ছে কার্যকরী পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ পূর্ণাাঙ্গ কার্যকরী কমিটির প্রস্তাবনা তৈরি করবে। প্রতিবছর মধ্য নভেম্বর থেকে এ কমিটির কার্যক্রম শুরু হবে এবং ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে শেষ করবে। এ কমিটি পরবর্তী বছরের জন্যে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে সাধারণ সদস্যদের মধ্য থেকে  মনোনয়ন চূড়ান্ত করার উদ্যোগ গ্রহণ করবে।

 

প্রেস ক্লাব নীতি নির্ধারণী কমিটি’র সদস্য পদের যোগ্যতা, শর্ত ও নীতিমালা এবং আচরণবিধি :

‘প্রেস ক্লাব নীতি নির্ধারণী কমিটি’ নিস্নোক্ত যোগ্যতা, শর্ত ও নীতিমালা এবং আচরণবিধির আলোকে তাঁদের কার্যক্রম পরিচালনা করবেন:

ক) প্রেস ক্লাব নীতি নির্ধারণী কমিটি’র সকল সদস্য সমান গুরুত্ব পাবেন।  তাঁরা গঠনতন্ত্রের অনুচ্ছেদ-১৬ অনুযায়ী সদস্যপদ খারিজের আওতাধীন থাকাসহ স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার মুখোমুখি হবেন।

খ) ‘প্রেস ক্লাব নীতি নির্ধারণী কমিটি’র সদস্য হতে হলে সাধারণ পরিষদের কমপক্ষে ১০ (দশ) বছর সদস্য পদে বহাল এবং কার্যনির্বাহী কমিটিতে ০৫ (পাঁচ) বছর দায়িত্ব পালন করতে হবে।

গ) কমপক্ষে স্মাতক অথবা ডিগি পাশ হতে হবে। তবে ১৫/২০ বছর পুরনো সদস্যের ক্ষেত্রে শিক্ষাগত যোগ্যতা শিথিলযোগ্য হবে।

ঘ) ‘প্রেস ক্লাব নীতি নির্ধারণী কমিটি’র সদস্য সর্বোচ্চ নৈতিকতা বা অখ- সততা বজায় রাখবেন। তিনি লোভ, মোহ বা প্রচ্ছন্ন, অপ্রচ্ছন্ন প্রভাবের ঊর্ধ্বে থাকবেন। তিনি ক্লাবের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ অন্যান্য পদপ্রার্থী থেকে অনৈতিকভাবে কোনো সুযোগ গ্রহণ, উপহার বা উপঢৌকন গ্রহণ করতে পারবেন না। এ ব্যাপারে সুস্পষ্ট অভিযোগের আলোকে প্রমাণ সাপেক্ষে  তিনি গঠনতন্ত্র মোতাবেক সাংগঠনিক ব্যবস্থার মুখোমুখি হবেন। শুধু তাই নয়, সংশ্লিষ্ট প্রার্থি ওই বছরের জন্য তাৎক্ষণিক প্রার্থিতার যোগ্যতা হারাবেন।

ঙ) প্রথমে সমঝোতা না হলে গোপন ভোট। ভোটে যিনি সর্বোচ্চ ভোট পাবেন তিনি নির্বাচিত হবেন। ভোট সমান হলে সভার সভাপতির কাস্টিং ভোটে জয়-পরাজয় নির্ধারণ হবে।

চ) সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক প্রার্থী থাকলে সমঝোতা পরিষদের বৈঠকে প্রথমে প্রার্থীদের মধ্যে সমঝোতার জন্যে সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা চালানো হবে। এ ক্ষেত্রে  ব্যর্থ হলে সমঝোতা পরিষদের সদস্যদের মাঝে ভোটাভুটি অনিবার্য হয়ে দাঁড়াবে। ভোটাভুটির সিদ্ধান্ত এবং ঘোষণার পর কোনো প্রার্থী তার প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে পারবেন না এবং সে সভায়ই ভোটের কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে। এই ভোটাভুটি প্রক্রিয়ায় যিনি সর্বোচ্চ ভোট পাবেন তিনিই নির্বাচিত হবেন।

ছ) প্রেস ক্লাব নীতি নির্ধারণী কমিটিতে কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব আসতে পারবেন না। তবে ২০ বছরের পুরনো সদস্যের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক পদ-পদবীর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।

জ) কার্যকরী পরিষদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচনের ক্ষেত্রে সমঝোতা কমিটিন মাধ্যমে প্রার্থিতা আহ্বান করবেন লিখিত নোটিসের মাধ্যমে অথবা মৌখিক নোটিশের মাধ্যমে। এই নোটিশ পত্রিকায়ও হতে পারে অথবা প্রেসক্লাবের ফেসবুক গ্রুপ পেইজে অথবা ডিজিটাল যোগাযোগ মাধ্যমেও হতে পারে।

ঝ) প্রেসক্লাব নীতি নির্ধারণী কমিটি’র সদস্যগণের কেউ গ্রহণযোগ্য ও যুক্তিযুক্ত কারণ ব্যতীত পর পর দুইটি সভায় উপস্থিত না হলে তার সদস্যপদ খারিজ হয়ে যাবে।

ঞ) সমঝোতা কমিটির কোনো সদস্যের পদ খারিজ হলে বা স্বেচ্ছায় কেউ এ কমিটিতে থাকতে অপারগতা প্রকাশ করলে সে সব পদ শূন্য বলে বিবেচিত হবে। এই শূন্য পদ সমঝোতা কমিটির সভা আহ্বানে অবশিষ্ট সদস্যদের দুই তৃতীয়াংশ সদস্যের ঐকমত্যের ভিত্তিতে পূরণ করা হবে। তা কার্যনির্বাহী পরিষদের সভায় অনুমোদন করিয়ে নিতে হবে।

ট) যিনি প্রার্থী হবেন তিনি প্রেসক্লাব নীতি নির্ধারণী কমিটির সভায় সভাপতিত্ব করতে পারবেন না এবং তিনি স্বীয় পদে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না।

ঠ) প্রেসক্লাব নীতি নির্ধারণী কমিটি’ প্রয়োজনীয় বিধিমালা প্রণয়ন তৈরি করতে পারবেন।

ড) কার্যকরী পরিষদ গঠনে নির্বাচনের প্রয়োজন হলে ‘প্রেসক্লাব নীতি নির্ধারণী কমিটি’র সদস্যদের মধ্য থেকে নির্বাচন কমিশন গঠন করবে এবং নির্বাচন আয়োজনে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণ করতে পারবেন।

 

 

অনুচ্ছেদ -২৩ 

কার্যকরী পরিষদ ও সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত সংক্রান্ত :

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের কার্যকরী পরিষদ ও সাধারণ পরিষদ সভায় অনুমোদিত কোনো সিদ্ধান্ত বিষয়ে পরবর্তীতে কোনো সভা অথবা কোনো ফোরামে এ বিষয়ে প্রশ্ন তোলা যাবে না।

 

অনুচ্ছেদ -২৪

সাংবাদিক কল্যাণ তহবিল :

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের সাংবাদিক কল্যাণ তহবিল নামে একটি তহবিল পৃথক ব্যাংক হিসেবে পরিচালিত হবে। এ তহবিলের সুষ্ঠুতা রক্ষায় অবশ্যই কার্যকরী পরিষদ অনুমোদিত নীতিমালা ও একটি উপ-কমিটি থাকবে। সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক, কোষাধ্যক্ষ এবং উপ-কমিটির আহ্বায়কের যৌথস্বাক্ষরে এ হিসাবটি পরিচালিত হলেও আহ্বায়কসহ অন্য যে কোনো দু’জনের স্বাক্ষরে টাকা উত্তোলন করা যাবে। এ তহবিলে আবশ্যিকভাবে সকল সদস্য (আজীবন  সদস্য ব্যতীত) সদস্য বার্ষিক কমপক্ষে ৫০০/-(পাঁচশত) টাকা অনুদান জমা দিতে হবে। ইচ্ছে করলে তদুর্ধ্ব যে কোনো পরিমাণ অনুদানও জমা দিতে পারবেন। এ ছাড়া সরকারি, বেসরকারি উন্নয়ন বরাদ্দ, সদস্যদের মাসিক চাঁদা ব্যতীত প্রেস ক্লাবের আয়ের প্রতিটি খাত থেকে শতকরা ৩০% ভাগ অর্থ কল্যাণ তহবিলে জমা হবে। এজন্যে প্রেস ক্লাবের কার্যকরী পরিষদের সাথে সমন্বয় করবে উপরোক্ত উপ-কমিটি। আজীবন সদস্য ব্যতীত যে সকল পেশাদার সাংবাদিক সম্মানিত সদস্যের কোটায় চলে যাবেন তারা কল্যাণ তহবিলের সুযোগ-সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। প্রেসক্লাবের অন্য সদস্যরা দুর্ঘটনা, অসুস্থতাসহ যে কোনো বিপর্যয়ের মুখোমুখি হলে কোনো সদস্য যদি সরাসরি অথবা তাঁর পক্ষে যদি কেউ সভাপতি/ সাধারণ সম্পাদকের নিকট লিখিত বা মৌখিকভাবে আবেদন করেন তাহলে আবেদনকারীকে তাৎক্ষণিকভাবে ২০,০০০/- (বিশ হাজার) টাকা প্রদান করা হবে। আর চিকিৎসার ধরণ অনুযায়ী কার্যকরী পরিষদের অনুমোদন সাপেক্ষে সর্বোচ্চ পঞ্চাশ হাজার টাকা প্রদান করা হবে। একজন সদস্য তার সদস্যপদ বহাল থাকাবস্থায় বা জীবদ্দশায় সর্বোচ্চ পাঁচবার কল্যাণ তহবিল থেকে অনুদান প্রাপ্তির জন্যে বিবেচিত হবেন। প্রেস ক্লাব সদস্যের স্ত্রী, সন্তান, পিতা-মাতা কল্যাণ তহবিল থেকে চিকিৎসার জন্য সহায়তা প্রাপ্ত হবে। এছাড়াও প্রেসক্লাবের কর্মকর্তা, কর্মচারীগণ কল্যাণ তহবিল থেকে সহযোগিতা প্রাপ্ত হবে।

উল্লেখ্য, সাধারণ সদস্যপদের মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ হবার পর কেউ মৃত্যুবরণ করলে কল্যাণ তহবিল থেকে তার পরিবার বা মনোনীতক দু’লক্ষ টাকা, সম্মানিত সদস্য একলক্ষ টাকা অনুদান পাবেন। কোনো সদস্যের সদস্য পদের মেয়াদ পাঁচ বছর পূর্ণ না হবার আগে তিনি মৃত্যুবরণ করলে কল্যাণ তহবিল থেকে তার পরিবার বা মনোনীতক একলক্ষ টাকা পাবেন।

 

অনুচ্ছেদ -২৫

কর্মচারী নিয়োগ, অব্যাহতি, পদোন্নতি ও অবসর সুবিধা :

চাঁদপুর প্রেস ক্লাবের জন্য আবশ্যক এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ম্যানেজার/ অফিস সহকারী/এমএলএসএস/নৈশ প্রহরী/পরিচ্ছন্নকর্মী নিয়োগের জন্য কার্যকরী পরিষদ সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবেন। কার্যকরী পরিষদ জনবল নিয়োগের জন্য প্রয়োজনীয় শর্তাবলী, নিয়োগ বিধি, বেতন-ভাতাদি, পদোন্নতি ও অবসর সুবিধা প্রদানের জন্য প্রয়োজনীয় নীতিমালা প্রস্তুত ও অনুমোদন করবেন। কর্মকর্তা-কর্মচারী নিয়োগকারী কর্তৃপক্ষ হিসেবে সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক দায়িত্ব পালন করবেন।

 

অনুচ্ছেদ -২৬

প্রেস ক্লাবের প্রতিষ্ঠান উদয়ন শিশু বিদ্যালয় সংক্রান্ত  :

 

 

অনুচ্ছেদ -২৭

প্রেস ক্লাব ভবন সংক্রান্ত :

 

অনুচ্ছেদ -২৮

গঠনতন্ত্র সংশোধন :

ক্লাবের কার্যক্রম যুগোপযোগী ও গতিশীল করার প্রয়োজনে এই গঠনতন্ত্রের যে কোনো অনুচ্ছেদ বা ধারা পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা সংশোধন করা যাবে। তবে এ ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আলোচ্যসূচি অন্তর্ভুক্ত করে যথা নিয়মে সাধারণ সভা বা বিশেষ সাধারণ সভা আহ্বান করতে হবে। সভায় কোরাম পূর্ণ হলে দুই-তৃতীয়াংশ সদস্যের সম্মতিতে গঠনতন্ত্রের সংশোধন, সংযোজন ও পরিবর্তন কার্যকর বলে গণ্য হবে। এই গঠনতন্ত্র (৫ম সংশোধনী) পাস হওয়ার পর পরবর্তী নিয়মতান্ত্রিক সকল সংশোধন/ সংযোজন মূল গঠনতন্ত্রের অতিরিক্ত অংশ হিসেবে যোগ হবে।   (সমাপ্ত)